আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নিজেদের সামরিক প্রভাব আরও সুসংহত করতে সোমালিয়াকে আধুনিক সমরাস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে তুরস্ক। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু বন্দরে তুরস্কের তৈরি ‘এম৪৮’ (M48) এবং ‘এম৬০’ (M60) প্যাটন ট্যাংকের একটি বিশাল চালান পৌঁছেছে। সোমালিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং আল-শাবাবসহ অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ দমনে তুরস্কের এই পদক্ষেপকে একটি বড় ধরনের কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে তুরস্ক ও সোমালিয়ার মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গত কয়েক বছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই ট্যাংক সরবরাহের আগে তুরস্ক সোমালিয়াকে তাদের অত্যাধুনিক ‘টি-১২৯’ (T129) অ্যাটাক হেলিকপ্টার সরবরাহ করেছে, যা আকাশপথে সোমালি বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি তুর্কি বিমানবাহিনীর শক্তিশালী ‘এফ-১৬’ (F-16) যুদ্ধবিমানও দেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। মোগাদিশুতে তুরস্কের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি ‘তুর্কসোম’ (TURKSOM)-এর মাধ্যমে তুর্কি প্রশিক্ষকরা নিয়মিত সোমালি সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যার ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমালিয়ার সমুদ্র ও স্থলভাগের খনিজ সম্পদ রক্ষা এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে তুরস্ক দেশটিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তুরস্কের এই ক্রমাগত সামরিক সহায়তা কেবল সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, বরং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে আঙ্কারার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তুর্কি ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানের এই উপস্থিতি সোমালিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।