দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট-২০২৬। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হলেও বাকি সব আসনে ভোটগ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের উপস্থিতিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ১ লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারদের মতে, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি এবার নির্বাচনের মূল আকর্ষণ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের রায় জানাবেন। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি ইইউ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন। ইতোমধ্যেই প্রবাসীদের জন্য চালু করা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোট জমা পড়েছে।
ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, আনুমানিক ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।