ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সম্ভাবনা: রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

আপলোড সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:৩০:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:৩০:১২ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন—এমন সম্ভাবনার বিষয়ে জোর আলোচনা চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে স্টারমারের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে।
 

খবরে বলা হয়, ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুরোনো তথ্য নজরে আসার পরই নিয়োগটিকে কেন্দ্র করে প্রবল সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকটের মধ্যেই রোববার স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন।
 

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অনেক সদস্য এখনও স্তম্ভিত যে স্টারমার রাষ্ট্রদূতের পদে ম্যান্ডেলসনকে অনুমোদন দিয়েছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা গোপনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন যাতে স্টারমারকে পদত্যাগে রাজি করানো যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাও পদত্যাগের হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি ত্বরান্বিত করার কথাও বিবেচনা করছেন। এক মন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, “আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগের সম্ভাবনা প্রায় ৫০-৫০।”
 

স্টারমার তার অবস্থান দৃঢ় রাখতে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে। রেইনার একই কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন—দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি (ট্যাক্স) না দেওয়ার অভিযোগের কারণে তিনি সরকারি পদ ছাড়েন। এ ছাড়া জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এমন পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে।
 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার পদত্যাগ করলে সরাসরি নতুন সাধারণ নির্বাচন হবে এমনটি নয়; বরং লেবার পার্টি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় নতুন নেতার নির্বাচন করতে পারে, যিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। এর আগে ২০২২ সালে একইভাবে লেবার নয়, বরং ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি এক বছরের মধ্যে দুইবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করেছিল—বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের ক্ষেত্রে।
 

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানায়, স্টারমার সহকর্মী সদস্যদের পদত্যাগ না করার বিষয়ে রাজি করার চেষ্টা চালাবেন এবং সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হাউস অব কমন্সে এ বিতর্ক নিয়ে ভাষণ দেবেন। তিনি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি লেবার পার্টির নারী সদস্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্টারমার শীঘ্রই জাতির উদ্দেশ্যে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারেন।
 

সূত্র: তাস — আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]