ইনকাম ট্যাক্স নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো আপনাকে ঝামেলায় ফেলতে পারে

আপলোড সময় : ০২-০২-২০২৬ ১১:৩৯:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০২-২০২৬ ১১:৩৯:১৮ অপরাহ্ন

ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর—এই শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে অযথা ভয় ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। করব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণার অভাবে অনেক করদাতা অজান্তেই এমন সিদ্ধান্ত নেন, যার ফল ভোগ করতে হয় পরে। সময়মতো রিটার্ন না দেওয়া বা ভুল তথ্য জমা দেওয়ার কারণে জরিমানা, ব্যাংক ঋণ পেতে জটিলতা, বিদেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধা কিংবা ব্যবসায়িক সমস্যার মুখে পড়ার ঘটনাও বিরল নয়।
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনকাম ট্যাক্স নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাই এসব সমস্যার মূল কারণ। সঠিক তথ্য জানা থাকলে করব্যবস্থা অনেকটাই সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়ে ওঠে। নিচে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
 

অনেকেই মনে করেন, আয় কম হলে বা করযোগ্য আয় না থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বাংলাদেশে টিআইএনধারী ব্যক্তি, চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমার নিচে আয় থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।
 

আবার টিআইএন সংগ্রহের পর অনেকেই ভাবেন দায়িত্ব শেষ। অথচ টিআইএন নেওয়ার পর নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করাই হলো মূল দায়িত্ব। সময়মতো রিটার্ন না দিলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
 

রিটার্ন জমার শেষ সময় ঘনিয়ে এলে তাড়াহুড়ো করে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার প্রবণতাও বড় সমস্যা। এতে পরবর্তীতে কর কর্তৃপক্ষের নোটিশ পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই আগেভাগে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।
 

আরেকটি ভুল ধারণা হলো—সব ধরনের আয় দেখাতে হয় না। বাস্তবে বেতন ছাড়াও ভাড়া, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন কাজ, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া আয়সহ সব বৈধ আয়ের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
 

কর কম দিতে গিয়ে আয় গোপন করার প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। এতে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য আইনি সমস্যার আশঙ্কা থাকে। অথচ সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করলে কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা বৈধ ও নিরাপদ পথ।
 

অনেক করদাতা জানেন না যে সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা, ডিপিএসসহ নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগে কর রেয়াত পাওয়া যায়। এই সুযোগগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কর দিয়ে থাকেন।
 

এ ছাড়া কর অফিসে গেলে হয়রানির শিকার হতে হবে—এমন ভয়ও অমূলক। বর্তমানে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল, কর মেলা এবং সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সহজেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়। সঠিক তথ্য দিলে কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় ভয়ের কিছু নেই।
 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনকাম ট্যাক্স কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি একজন নাগরিকের দায়িত্ব। নিয়ম মেনে ও সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াই সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। এখনই প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো সংশোধন করা গেলে ভবিষ্যতের বড় ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]