প্রায় দুই বছর পর খুলল গাজা–মিসর রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং

আপলোড সময় : ০২-০২-২০২৬ ০৯:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০২-২০২৬ ০৯:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সীমিত পরিসরে চালু হওয়া এই ক্রসিং দিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিদের মিসরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা বহুদিন ধরে অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 

বিবিসির প্রতিবেদনে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, ক্রসিংটি পরিচালনা করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধায়ক দল ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মীরা। নিরাপত্তা যাচাই দূর থেকে করবে ইসরায়েল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ জন রোগীকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে, সঙ্গে থাকতে পারবেন একজন বা দুজন স্বজন। একইভাবে যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রতিদিন ৫০ জনকে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।
 

২০২৪ সালের মে মাসে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে রাফাহ ক্রসিং কার্যত বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই এটি খোলার কথা থাকলেও, গাজায় থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখে ইসরায়েল। গত সপ্তাহে ওই মরদেহ ফেরত দেওয়ার পর সীমান্ত খোলার ঘোষণা আসে এবং পরবর্তীতে তা চালু করা হয়।
 

রাফাহ ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে গাজার মানুষের জন্য বাইরের বিশ্বের সঙ্গে প্রধান সংযোগপথ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এর পুনরায় চালু হওয়া অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও, যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা ও ফেরত আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
 

গাজার হাসপাতাল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন। বর্তমান হারে অনুমতি দেওয়া হলে সবার চিকিৎসার সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও সহায়তা প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় সংকট আরও জটিল হচ্ছে।
 

রাফায় কর্মরত জরুরি চিকিৎসক জেমস স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মানবিক সহায়তার পরিমাণ সীমিত থাকলে উন্নত চিকিৎসার অভাবে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে। তার দাবি, চিকিৎসার অপেক্ষায় ইতোমধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
 

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে গাজা ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কায়রোতে অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাসে এরই মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেছেন।
 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে রাফাহ ক্রসিংয়ের গাজা অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইসরায়েল সেখানে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এতে গাজার মানুষের জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়, বিশেষ করে চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের ক্ষেত্রে। রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় সেই সংকট কিছুটা লাঘবের আশা করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]