যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও বিমানবাহী রণতরীগুলো তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হবে আগের চেয়ে দ্রুত, কঠোর ও চূড়ান্ত।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সম্পূর্ণ নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোও গুরুতর নিরাপত্তাগত ঝুঁকিতে আছে।
পূর্ববর্তী সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে আকরামিনিয়া বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের আকস্মিক হামলার কৌশল নিয়েছিল, ভবিষ্যতে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে তাৎক্ষণিক এবং নির্ধারক। তার ভাষায়, সামরিক জবাব কোনো প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে বহুদিনব্যাপী প্রস্তুতি মহড়া চালানো হবে, যেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন, শত্রু বাহিনী প্রতিহত করার সক্ষমতা এবং সংঘাতকালীন টিকে থাকার কৌশল পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, ইরানের দিকে আরও বড় নৌবহর এগিয়ে যাচ্ছে এবং তেহরান দ্রুত পারমাণবিক চুক্তিতে না এলে আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়—বিশ্ব অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। সম্ভাব্য সংঘর্ষে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে।
সূত্র: গালফ নিউজ