জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তারা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, মামলার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও প্রধান অপরাধীদের (প্রিন্সিপাল অফেন্ডার) অপর্যাপ্ত শাস্তি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান ভবিষ্যতে এই রায়ের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। তারা এই রায়কে জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি এবং একটি নেতিবাচক নজির হিসেবে অভিহিত করে তা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চানখাঁরপুলের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের বড় একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। বিচারক প্যানেল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, তারা সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই মামলার ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক এবং ৬ জন কারাগারে রয়েছেন। যেকোনো দিন এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১-এ টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শুনানি চলাকালে ট্রাইব্যুনাল কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল ইজ কোয়াইট স্ট্রিক্ট; এখানে অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে খালাস।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন এই মামলার আসামি, যাদের মধ্যে ১০ জন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামিপক্ষ এই মামলায় ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিক প্রমাণের অভাব দাবি করলেও ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তা নাকচ করে দেন। জুলাই গণহত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই দুই মামলার অগ্রগতি ও শহীদ পরিবারের অবস্থান বর্তমানে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।