কর-জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টার কাছে টাস্কফোর্সের রূপরেখা জমা

আপলোড সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০১:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০১:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন

দেশের ভঙ্গুর কর কাঠামো সংস্কার এবং কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের টাস্কফোর্স এই ঐতিহাসিক প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনে বর্তমান কর ব্যবস্থাকে ‘জটিল ও অদক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী কিন্তু বাস্তবসম্মত রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

​প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস টাস্কফোর্সের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় কম হলেও আমরা এই বৈপ্লবিক সংস্কারের পথচলা শুরু করে দিয়ে যেতে চাই।” তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদনকে রাজস্ব খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গাইডলাইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

​‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কর আদায় ব্যবস্থার ৭০ শতাংশই পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। টাস্কফোর্স এই অনুপাত পরিবর্তন করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার ৫০:৫০-এ নিয়ে আসার সুপারিশ করেছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

​প্রতিবেদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পণ্য খালাসে বন্দরের পরিবর্তে ‘পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট’ চালু এবং ভ্যাট ব্যবস্থায় একাধিক হারের বদলে ‘একক হার’ প্রবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সের প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ায় রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। (সূত্র: বাসস)

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]