কূটনীতির দরজা খোলা রেখে ইরানের ওপর কঠোর শর্ত ও সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপলোড সময় : ২৭-০১-২০২৬ ০৪:১৫:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০১-২০২৬ ০৪:১৫:৩১ অপরাহ্ন
 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার কথা জানালেও একই সঙ্গে কঠোর শর্ত, সামরিক প্রস্তুতি ও চাপের কৌশল থেকে সরে আসছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে একদিকে কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে শক্ত অবস্থান বজায় রেখে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে।
 

ওয়াশিংটনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার জানান, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো সংলাপের আগে তেহরানকে আগে থেকেই নির্ধারিত কঠিন শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ায় এই দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
 

গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি বড় মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ ইতোমধ্যে ইরানের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামরিক শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না, তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভের তীব্রতা ও প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, একটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
 

এই অবস্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আক্রমণকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
 

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চারটি মূল শর্ত নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুরোপুরি ধ্বংস করা, দেশটির ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা। এসব শর্ত ইতোমধ্যে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের ওপর সামরিক হামলার বিকল্প এখনো পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নতুন করে পরামর্শ করবেন এবং সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করবেন।
 

এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে। এর লক্ষ্য হতে পারে সমুদ্রপথে ইরানের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেশটিকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ফেলা। কূটনীতি, সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও কঠোর শর্তের এই সমন্বয়ে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]