রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তাক্ত অধ্যায় অবসানে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় আসতে যাচ্ছে। দীর্ঘ চার বছরের সংঘাতের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) আয়োজনে আগামী ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) পার্শ্ববৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই বড় ঘোষণাটি সামনে এসেছে।
দাভোসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত করা শান্তি চুক্তির খসড়া এখন ‘প্রায় চূড়ান্ত’ পর্যায়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আরব আমিরাতের এই বৈঠকে রাশিয়া গঠনমূলক সমঝোতায় পৌঁছাতে সদিচ্ছা দেখাবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি দল মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন, যা এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। আরব আমিরাতের এই কারিগরি পর্যায়ের (technical level) বৈঠকে মূলত যুদ্ধবিরতি, যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। ইউক্রেন বারবার আমেরিকান নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর জোর দিলেও রাশিয়া তার নিজস্ব স্বার্থ ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে অনড় রয়েছে। এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে দুই দিনের এই আলোচনা যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। (সূত্র: দ্য গ্লোবাল আই