মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক কানাডাকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম অঙ্গরাজ্য” হিসেবে ঘোষণা করার পর ওটাওয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার সামরিক নীতিনির্ধারকরা একটি কাল্পনিক মার্কিন আগ্রাসন (Hypothetical U.S. Invasion) পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করেছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার সামরিক পরিকল্পনাকারীরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সরাসরি বা প্রচলিত যুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডা বড়জোর কয়েক দিন টিকে থাকতে পারবে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই তারা সরাসরি যুদ্ধের বদলে ‘গেরিলা যুদ্ধ’ বা ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ’ কৌশল অবলম্বনের ওপর জোর দিচ্ছেন।
কানাডার সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে নিয়মিত সেনাবাহিনী নয় বরং বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধই হবে দেশটির প্রধান রক্ষা কবচ। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে:
অতর্কিত হামলা (Ambush): কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মার্কিন বাহিনীকে আকস্মিক আঘাত করা।
অবকাঠামো নাশকতা (Sabotage): দখলকৃত এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া।
ড্রোন ও হিট-অ্যান্ড-রান: ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং ছোট ছোট ইউনিটে বিভক্ত হয়ে আক্রমণ করে দ্রুত সরে পড়া।
বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ: কেন্দ্রীয় কমান্ড ভেঙে পড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু রাখা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর আমেরিকার দুই দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে এমন যুদ্ধ-পরিকল্পনা আধুনিক ইতিহাসে বিরল। মূলত ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য ওটাওয়াকে তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ধারণা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। সামরিক নীতিনির্ধারকদের মতে, একটি পূর্ণ শক্তির আগ্রাসনের মুখে কানাডার জয়ী হওয়ার চেয়ে দখলদারিত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য করে তোলা যায়, সেটিই এই ‘গেরিলা কৌশল’-এর মূল লক্ষ্য।
(সূত্র: ব্লুমবার্গ)।
(সূত্র: ব্লুমবার্গ)।