পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও কৃষিজমি রক্ষায় দেশজুড়ে ১৮টি স্তরে জোনিং ম্যাপ বা ভূমি অঞ্চল মানচিত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছেন, যা ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর অতি দ্রুত মৌজা ও দাগ নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমারেখা দিয়ে সারা দেশের ভূমি বিভাজন করা হবে। তবে বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহকে এই অধ্যাদেশের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
নতুন এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভূমির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ রক্ষায় একটি সমৃদ্ধ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যা নিয়মিত হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জোন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (SRDI) গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে। জোনিং ম্যাপটি একযোগে পুরো দেশের জন্য অথবা কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য ধাপে ধাপে তৈরি করা হতে পারে। এছাড়া খসড়া ম্যাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে।
ভূমিকে যে ১৮টি জোনে ভাগ করা হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কৃষি ও বিশেষ কৃষি অঞ্চল, নদী-খাল ও জলাভূমি, শহুরে আবাসিক ও গ্রামীণ বসতি, বাণিজ্যিক ও শিল্প অঞ্চল এবং বন ও রক্ষিত এলাকা। এছাড়াও প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য এবং পাহাড়-টিলা অঞ্চলের জন্য পৃথক জোন থাকবে। অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, খসড়া ম্যাপ প্রস্তুতের পর জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অপরিকল্পিত আবাসন ও শিল্পায়ন রোধ করে পরিবেশবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।