রাজধানীর আবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষায় যুগান্তকারী ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বাড়িওয়ালা দুই বছরের আগে ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন না এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য সার্বক্ষণিক মূল ফটক ও ছাদের চাবি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএনসিসি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব নির্দেশনার কথা জানান সংস্থাটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ এর আলোকে প্রণীত এই নির্দেশিকায় ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা—উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার প্রায় সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার বড় একটি অংশ ভাড়াটিয়া হলেও আবাসন খাতের ব্যয় এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আয়ের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশই বাড়িভাড়ায় ব্যয় হচ্ছে, যা আদর্শিক মানদণ্ড ৩০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই সিটি করপোরেশন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ডিএনসিসির নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ যা থাকছে:
প্রশাসনিক এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাড়ির মালিককে অবশ্যই আবাসন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াকে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি ভাড়াটিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ভবনের মূল ফটক ও ছাদের চাবি দিতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে বা যেকোনো সময় তারা যাতায়াত করতে পারেন।
ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি বার্ষিক ভাড়া না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ থেকে ৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না এবং চুক্তিপত্রে ভাড়া বৃদ্ধি ও অগ্রিম জমার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে চাইলে বা বাসা ছাড়তে হলে কমপক্ষে দুই মাসের লিখিত নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিবাদ মীমাংসার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের ওপর জোর দিয়েছে ডিএনসিসি। যদি স্থানীয়ভাবে সমাধান না হয়, তবে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।