ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুখাল্লার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি গোপন কারাগার পরিচালনা করছে এমন অভিযোগ তুলেছে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। অভিযোগটি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলেও আমিরাত তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইয়েমেনের মুখাল্লা শহরের নিকটবর্তী আল-রাইয়ান বিমানঘাঁটিতে আমিরাত একটি গোপন কারাগার পরিচালনা করছে বলে দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। হাদরামাউত প্রদেশের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিস্ফোরক ও বুবি ট্র্যাপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
গভর্নর আল-খানবাশি দাবি করেন, এই ধরনের কার্যক্রম ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক জোটের ঘোষিত লক্ষ্য কিংবা বৈধ সরকারকে সহায়তার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, আমিরাত বাহিনী পরিচালিত বলে দাবি করা একাধিক গোপন কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, হাদরামাউতের গভর্নরের বক্তব্য ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’। আমিরাতের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো মূলত সামরিক আবাসন, অপারেশন কক্ষ ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু স্থাপনা ভূগর্ভে অবস্থিত—যা বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় একটি সাধারণ ও পরিচিত বৈশিষ্ট্য। এসব কাঠামোর সঙ্গে গোপন কারাগার পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে আবুধাবি।
এদিকে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৩০০ জনের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।
আইওএমের মতে, সহিংসতা, সংঘাত এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতির ফলে এই বাস্তুচ্যুতি ইয়েমেনের ইতিমধ্যে দুর্বল ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। মানবিক সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এর ফলে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী মোহসেন আল-জিন্দানি রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইয়েমেনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ওয়াশিংটনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।