পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে একটি শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে, আর এখনো অন্তত ৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাতে স্থানীয় পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, এখন পর্যন্ত করাচির সিভিল হাসপাতালে ২৭টি মরদেহ আনা হয়েছে। এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে, করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিংমলে। এটিকে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে শহরটির অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ চেষ্টার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর সোমবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
পুলিশ সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমানে ৮১ জন। তবে তালিকায় কিছু নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭৪ জন নিখোঁজের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৫০ জনের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সিন্ধু ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
করাচি দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবী খোসো জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো শপিংমলের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করেছে। ভবনের উপরের তলাগুলোতে অনুসন্ধান ও পরিষ্কার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিল কেটে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফায়ার অফিসার জাফর খান বলেন, ভবনের সামনের ও পেছনের অংশ আংশিকভাবে ধসে পড়েছে এবং ভেতরের কাঠামোতেও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও যেখানে মরদেহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুল প্লাজা শপিংমলে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টি দোকান রয়েছে। সেখানে কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ নানা দাহ্য পণ্য মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতা বেড়ে যায়। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।