সাভারের আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা মানব কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। তদন্তে জানা গেছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এক কিশোর অটোরিকশা চালককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই এবং লুণ্ঠিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত শুক্রবার রাতে সাভারের আক্রান বাজার এলাকা থেকে মো. রনি মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে মো. এরশাদ আলী (৩৪) ও মো. আবুল কালাম (৫২) নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও পরে বিক্রি করা অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর আশুলিয়ার আমিন মোহাম্মদ হাউজিং এলাকার একটি কাশবন থেকে মাথার খুলিসহ ৩৮ টুকরা মানব কঙ্কাল ও কিছু পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিখোঁজ এক কিশোরের পরিবারের সদস্যরা পোশাক শনাক্ত করার মাধ্যমে কঙ্কালটি অটোরিকশা চালক মিলন হোসেনের বলে নিশ্চিত করেন।
নিহত মিলন হোসেন (১৫) পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। তিনি গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন তার মা আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকাকালেই কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিলনকে হত্যা করেন। ঘটনার দিন এক পলাতক আসামি অটোরিকশা ভাড়া করে মিলনকে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে অন্যদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আশুলিয়ার একটি কাশবনে যাওয়ার পর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। শনাক্ত এড়াতে অটোরিকশার রং পরিবর্তন করে তা বিক্রি করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।