আর্কটিক অঞ্চল ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ‘গ্রিনল্যান্ড’ দখলে নিতে শতাব্দী প্রাচীন প্রচেষ্টা পুনরায় জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজ সম্পদের (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) বিশাল ভাণ্ডার সমৃদ্ধ ৮ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইলের এই দ্বীপটি কেবল ভূ-প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের ওপর, যা নতুন করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ড কেনা বা অধিগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে উনিশ শতক থেকেই বিদ্যমান। ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কেনার পর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ সিউয়ার্ড ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও সেই প্রস্তাব সফল হয়নি, তবে বিশ শতকের শুরুতে ১৯১০ সালে ফিলিপাইনসের মিনদানাও দ্বীপের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড পাওয়ার একটি ‘দুঃসাহসিক’ প্রস্তাবও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ১৯৪৬ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের বিনিময়ে দ্বীপটি কিনতে চাইলেও ডেনমার্ক তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
শীতল যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে গ্রিনল্যান্ডের সামরিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ গ্রিনল্যান্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিলেন, যাতে আর্কটিক অঞ্চল দিয়ে আসা যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। যদিও ডেনমার্ক দ্বীপটি বিক্রি করেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়। ১৯৭৯ সালে গ্রিনল্যান্ড স্বশাসন লাভ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের মতো আবারও গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব তুলেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সরাসরি বলেন, “কোনো না কোনোভাবে আমরা এটা নেবই।” ট্রাম্পের প্রধান আশঙ্কা হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে না নেয়, তবে রাশিয়া বা চীন এই অঞ্চলের দখল নিতে পারে। তবে ডেনমার্ক সরকার বরাবরের মতোই তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’। এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(সূত্র: সিএনএন)
(সূত্র: সিএনএন)