পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে দারিদ্র্য ও দুর্গমতা সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তাঁর মতে, আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের বহু শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, ফলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার টাউন হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভার বিষয় ছিল ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’।
উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পাঠ্যবইকেন্দ্রিক জ্ঞান দেওয়া নয়; বরং শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো। এই বিকাশ মানসিক, শারীরিক, নৈতিক ও সামাজিক—সব দিক থেকেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে পার্বত্য অঞ্চলে দারিদ্র্য একটি বড় বাস্তবতা, যার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মধ্যেও শিক্ষার প্রতি আগ্রহের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পাশাপাশি ভাষাগত বৈচিত্র্যও এই অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ।
ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। দুর্গমতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভার আগে তিনি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠ্যজ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও শারীরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমইউয়ের মহাপরিচালক তসলিমা আক্তার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।