জম্মু-কাশ্মীরে মসজিদ ‘প্রোফাইলিং’: ভারতের পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ পাকিস্তানের

আপলোড সময় : ১৭-০১-২০২৬ ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০১-২০২৬ ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন
 

জম্মু ও কাশ্মীরে মসজিদ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোর তথ্য সংগ্রহ বা ‘প্রোফাইলিং’ করার অভিযোগে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
 

শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই ধরনের কার্যক্রম ওই অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি ও তাদের সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার একটি ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগের অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং ধর্মীয় পরিচয় জোরপূর্বক সংগ্রহ করা পদ্ধতিগত হয়রানির শামিল, যা উপাসকদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
 

পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন এক সময়ে, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’ ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ভারতে মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশ ঘটেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে।
 

বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো হিন্দুত্ববাদী আদর্শে প্রভাবিত একটি বৃহত্তর নীতির অংশ, যেখানে ইসলামবিদ্বেষ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা এই নীতির বৈষম্যমূলক চরিত্র স্পষ্ট করে বলেও মন্তব্য করা হয়।
 

ইসলামাবাদ আরও জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের ভয়, জবরদস্তি কিংবা বৈষম্য ছাড়া তাদের ধর্মীয় আচার পালনের মৌলিক অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে কাশ্মীরি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, ধর্মীয় নিপীড়ন ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে কণ্ঠ তুলে যাওয়ার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।
 

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন, ধর্মান্তরবিরোধী আইন, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং সংখ্যালঘু মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অভিযানের কথাও তুলে ধরেছে এসব সংস্থা।
 

সম্প্রতি বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও উৎসবের সাজসজ্জা ভাঙচুরের ঘটনাও ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]