বিগত সরকারের আমলে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শুনে আবেগ সংবরণ করতে পারেননি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বজনহারাদের দীর্ঘদিনের বেদনা ও ন্যায়বিচারের আকুতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর চীন–মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তারেক রহমান। ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় একে একে পরিবারের সদস্যরা তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি তুলে ধরেন। কেউ কেউ জানান, স্বামী বা পিতাকে হারিয়ে কীভাবে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটছে। বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এক ভুক্তভোগীর কন্যা শাফা বলেন, তাঁর বয়স যখন মাত্র দুই মাস, তখন বাবাকে গুম করা হয়। এখন তাঁর বয়স ১৩ বছর হলেও বাবার মুখ দেখার কোনো স্মৃতি নেই। বাবার একটি ছবি হাতে নিয়ে বহু জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি বলে তিনি জানান। একইভাবে পারভেজ নামে এক গুম হওয়া ব্যক্তির ছেলে রাতুল বলেন, তাঁর বাবাকে বাবার চাচার সঙ্গে একসঙ্গে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলে পরিবারের বিশ্বাস। প্রায় ১৩ বছর ধরে তারা কোনো তথ্য পাননি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর এসব কান্নাজড়িত বক্তব্য শুনে একপর্যায়ে মঞ্চে বসেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারেক রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছু সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা নিখোঁজ স্বজনদের ভাগ্য নির্ধারণ এবং গুমের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। সভা শেষে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তারেক রহমান তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের কষ্টের কথা শোনেন।