লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও স্বাক্ষর সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় এই সংঘাত শুরু হয়, যা পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতাল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থল ও সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার উদ্যোগে কোরআন তেলাওয়াত ও একটি ঘরোয়া কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অভিযোগ ওঠেছে, ওই অনুষ্ঠানে জামায়াত নেত্রীরা উপস্থিত নারী ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জামায়াতের সাকিব, এমরান, আব্দুর রহমানসহ ৭ জন এবং বিএনপির আব্দুল ও কামালসহ ৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সুমন দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান শরীফ অভিযোগ করেন, জামায়াত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি সংগ্রহ করে বিধি লঙ্ঘন করছিল, যা প্রতিহত করতে গেলে জামায়াত কর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দুই পক্ষই হাসপাতাল এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় এবং স্লোগান দেওয়ায় সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।