নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে দেশে প্রথমবার চালু হলো টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ও ‘মুন অ্যালার্ট’

আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৫:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৫:৫০:১৩ অপরাহ্ন

নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট)’ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে চালু হয়েছে নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৩২১৯, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য জানাতে পারবেন।
 

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে মুন অ্যালার্ট ও হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ। সিআইডি ও ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।
 

সিআইডি জানায়, কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যুক্তিসংগত আশঙ্কা দেখা দিলে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এই সতর্কবার্তা অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রয়োজনে মোবাইল এসএমএস ও সেল ব্রডকাস্টিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
 

নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেলের নম্বর ০১৩২০০১৭০৬০ অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এ জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সতর্কবার্তা জারি, স্থগিত বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল।
 

সিআইডি আরও জানায়, শিশু পাচার বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে রক্ষা করা হবে।
 

অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত বহু শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, যাদের একটি বড় অংশ মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে অনেক শিশুকে যৌন নির্যাতন, অঙ্গহানি বা বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। কখনো কখনো হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 

তিনি আরও বলেন, অনেক ঘটনায় শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়, এমনকি নিকটাত্মীয়দের জড়িত থাকার ঘটনাও দেখা যায়। এসব হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, গণমাধ্যম ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
 

আন্তর্জাতিকভাবে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৬ সালে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালু হয়, যা বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যকর রয়েছে। সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তারের নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।
 

মুন অ্যালার্ট চালুর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে উঠবে, যা শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]