যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নামে সংঘাতে জড়াতে চায়, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত—এমন বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনো বন্ধ হয়নি, তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগেও ইরানের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু হলে ইরান তা মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন সংঘাতের পথ এড়িয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেবে এবং আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী। এ অবস্থায় যারা ইসরাইলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে উৎসাহিত করছে, তাদের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, চলমান বিক্ষোভে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করেছে, যারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা বলেছেন। এর জবাবে ইরানি নেতৃত্ব এটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি চাপ হিসেবে দেখছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার জনগণের অভিযোগ ও দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনতে প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: আল জাজিরা