বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক ‘সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম’ বা কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে সেচ প্রযুক্তির সফল যাত্রা শুরু হয়েছে। নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের দুটি খামারে অত্যাধুনিক এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে সোমবার (১২ জানুয়ারি)। অস্ট্রিয়ার কারিগরি ও বিএডিসির ‘পানাসি’ প্রকল্পের প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রযুক্তি দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিতে মাটির নিচ দিয়ে পাইপের বদলে বিশাল আকারের স্প্রিংকলারের মাধ্যমে প্রায় ১২৫ একর জমিতে একসঙ্গে বৃষ্টির মতো পানি ছিটানো সম্ভব। পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ জেলা ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অস্ট্রিয়ার বায়ার কোম্পানির সহযোগিতায় শেরপা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ভবানীপুর ও মুলাডুলি খামারে স্থাপিত এই প্রযুক্তিতে পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রম ও সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের তথ্যমতে, আগে ১২৫ একর জমিতে সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দিতে ২৫০ জন শ্রমিকের প্রায় ৬০ দিন সময় লাগত। এখন মাত্র ৬০ জন অপারেটরের মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ দিনেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে একর প্রতি ১৩-১৪ টন ফলন পাওয়া যেত, এই পদ্ধতিতে তা ২৫-৩০ টনে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, যা উঁচু-নিচু জমিতেও সমানভাবে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে ফলন ত্বরান্বিত করবে।