নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য মুসল্লির শরীর, পরিধেয় কাপড় এবং নামাজ আদায়ের স্থান পবিত্র হওয়া অপরিহার্য। এ কারণেই কোরআন ও হাদিসে পবিত্রতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে দৈনন্দিন জীবনে, ভ্রমণকালে কিংবা কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন নামাজের স্থান নাপাক থাকে বা তার পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। এমন অবস্থায় নামাজ আদায়ের বিধান কী—এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো জমিন বা স্থান নাপাক হয়, তবে তার ওপর পবিত্র কাপড়, চাদর বা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করা জায়েজ। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না।
মূলনীতি হলো—মুসল্লির শরীর এবং যে জায়গায় সে দাঁড়াবে ও সেজদা করবে, অর্থাৎ জায়নামাজ বা বিছানো কাপড়টি অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। নিচের মাটি বা মেঝে নাপাক হলেও সমস্যা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত নাপাকির কোনো প্রভাব—যেমন রং, দুর্গন্ধ বা আর্দ্রতা—পবিত্র কাপড়ের ওপর পৌঁছে না।
ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট ফতোয়া পাওয়া যায়। বিখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ আল-বাহরুর রায়েক-এ বলা হয়েছে, “নাপাক জমিনের ওপর পবিত্র কাপড় বিছিয়ে তার ওপর নামাজ আদায় করা জায়েজ।” (আল-বাহরুর রায়েক: ১/২৬৮) একই বিধান ফতোয়ায়ে শামি গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে। (ফতোয়ায়ে শামি: ১/৬২৬)
ইসলাম মানুষের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত বিধান দিয়েছে। তাই কোনো স্থানের নাপাকির অজুহাতে নামাজ কাজা করা বা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সঙ্গে থাকা পবিত্র জায়নামাজ, চাদর বা পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করলেই সেই স্থান নামাজের জন্য উপযুক্ত হয়ে যায়।