আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে একটি স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ ও পানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং খনি শ্রমিকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তালেবান সরকারের খনিজ ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এই সহিংসতার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সংঘর্ষে মানবিক ও আর্থিক—উভয় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তাজিকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম চাহ আব জেলায়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ওই খনিতে কাজ করতে আসা অন্য প্রদেশের শ্রমিকদের সাথে স্থানীয়দের বিরোধের সূত্রপাত হয় মূলত জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত কারণে। অভিযোগ উঠেছে, খনি খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা স্থানীয়দের পানীয় জলের উৎস বা সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা ও পাথর নিয়ে খনি শ্রমিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সংঘাত সহিংস রূপ নেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে একাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং উত্তেজনার মুখে শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
আফগানিস্তানের ভূ-গর্ভস্থ সম্পদ দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের পূর্ববর্তী সমীক্ষা অনুযায়ী, আফগান পর্বতমালায় প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সোনা, তামা, লিথিয়াম, মার্বেল এবং কয়লার বিশাল মজুত রয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তালেবান সরকার বিদেশি সাহায্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই খনিজ খাতকে রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খনি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষা না হওয়া এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এই ধরণের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমান ঘটনাটি খনিজ সম্পদ আহরণে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।