যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। একে একটি "সাম্রাজ্যবাদী হামলা" হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জাতীয় সমাবেশ ও সশস্ত্র প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ভেনেজুয়েলা সরকারের এক জরুরি বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখন থেকে সাধারণ জনগণ ও সামরিক বাহিনী একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ওয়াশিংটনের আগ্রাসন রুখতে এটিই এখন কারাকাসের প্রধান কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের জারি করা এই বিশেষ ডিক্রিতে দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটি এখন থেকে আর কেবল কূটনৈতিক পথে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরাসরি ‘সশস্ত্র প্রতিরোধের’ পথে অগ্রসর হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন কমান্ডো অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো এই ডাক দেওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ বা গেরিলা যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ) জানিয়েছে, কারাকাসের এই আহ্বানের পর দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সরকার সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীকে সক্রিয় করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যখন ভেনেজুয়েলায় নতুন রোডম্যাপ ও তেলের অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই ‘জাতীয় সমাবেশ’-এর ডাক ওয়াশিংটনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই জরুরি অবস্থার ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ল এবং আঞ্চলিক উত্তজনা এক নতুন মাত্রা পেল। (সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল)