জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ওএমআর মেশিন ব্যবহার না করে হাতে ভোট গণনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল। ওএমআর পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি থাকার আশঙ্কা থেকেই এই দাবি তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্যানেলটির নেতারা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন প্যানেলটির প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, জকসু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হাতে ভোট গণনাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বলে তারা মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্যানেলটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিলসহ অন্যান্য প্রার্থীরা। তারা অভিযোগ করেন, ওএমআর মেশিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগেও বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন দেখা গেছে, যা ভোটের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার মতে, ওএমআর মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এতে কোনো ধরনের কারিগরি অনিয়মের সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, জকসু নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নতুন তারিখ নির্ধারণ করে আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জকসু নির্বাচনের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।