জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত আরও আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এসব শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর শহীদদের স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেককে প্রিয়জনের কবর জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন— ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম, মো. মাহিম, সোহেল রানা, মো. আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম।
সিআইডি জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা ১১৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের মরদেহ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয় এবং গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ফরেনসিক চিকিৎসকদের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের স্বজনদের মধ্যে থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ বিশ্লেষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।