তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়াকে ‘অনিবার্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, চীনের পুনর্মিলন কেউ ঠেকাতে পারবে না। দ্বীপদেশ তাইওয়ানকে ঘিরে বেইজিংয়ের দুই দিনব্যাপী বিশাল সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরই শি জিনপিংয়ের এই সরাসরি হুঙ্কার বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। বেইজিং দীর্ঘকাল ধরেই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট শি’র এই ভাষণের আগে গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে এক বিশাল সামরিক মহড়া চালায় চীনা সেনাবাহিনী। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই মহড়ায় চীন অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার কয়েকটি দ্বীপটির উপকূলের অত্যন্ত কাছাকাছি আঘাত হানে। মহড়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও বর্তমানে চীনের অন্তত ২৫টি নৌজাহাজ ও কোস্টগার্ডের ভেসেল দ্বীপটির চারপাশে টহল দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবেই চীন এই রণপ্রস্তুতি দেখিয়েছে।
এদিকে চীনা প্রেসিডেন্টের এই আধিপত্যবাদী অবস্থানের কড়া জবাব দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। তিনি তার নববর্ষের ভাষণে চীনের ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েছেন। অন্যদিকে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে ‘অ্যাক্সিস অব আপহিবল’ বা ‘উত্থানের অক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
(সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান)
(সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান)