স্পেন উপকূলে রহস্যজনক বিস্ফোরণের পর ডুবে যাওয়া রাশিয়ার কার্গো জাহাজ ‘উরসা মেজর’ (Ursa Major) নিয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। সাধারণ পণ্য পরিবহনের দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, জাহাজটিতে আসলে পারমাণবিক সাবমেরিন চুল্লির (Nuclear Submarine Reactor) অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন যন্ত্রাংশ ছিল। এসব যন্ত্রাংশ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় পাচার করা হচ্ছিল বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্পেনের জলসীমায় এই দুর্ঘটনা ঘটলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ ও কার্গোর ধরণ নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিতে ‘VM-4SG’ মডেলের দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন চুল্লির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছিল যে, জাহাজটি কেবল বরফ কাটার যন্ত্রাংশ (Icebreaker components) বহন করছিল। তবে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ আকাশ থেকে তোলা উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, জাহাজে থাকা কার্গোগুলোর কাঠামো ও আকৃতি পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশের সাথে হুবহু মিলে যায়। এই তথ্যের পর আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় রাশিয়ার গোপন সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে যখন দুর্ঘটনাস্থলে রাশিয়ার ‘ইয়ানতার’ (Yantar) নামক একটি বিশেষ জাহাজের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, ‘ইয়ানতার’ জাহাজটি রাশিয়ার গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং সমুদ্রের তলদেশে সংবেদনশীল অনুসন্ধান চালানোর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ডুবে যাওয়া জাহাজের সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি যাতে অন্য কারো হাতে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে বা ধ্বংস করতেই দ্রুত এই জাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তজনা আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।