ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ তীব্র, আন্দোলনকারীদের সহায়তার ঘোষণা ইসরায়েলের

আপলোড সময় : ৩০-১২-২০২৫ ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১২-২০২৫ ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন

মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্যে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তেহরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। শহীদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি সমাবেশে নারীর অধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও, যেখানে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন।
 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজ জানায়, বিক্ষোভের সমর্থনে টানা তৃতীয় দিনের মতো তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা দোকান না খুলে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানান। রাজধানীর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমানশাহসহ আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবিও শোনা যায়।
 

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক শীত ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার যুক্তি দেখিয়ে তেহরানে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। তবে সমালোচকদের মতে, আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবেই এই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
 

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানি জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। পোস্টে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের কেবল দূর থেকে নয়, সরাসরি মাঠপর্যায়েও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য অবস্থান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
 

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হিজাববিরোধী আন্দোলনের পর এটি ইরানে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই আন্দোলন কয়েক মাস স্থায়ী হয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]