অবাধ নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানালেন ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

আপলোড সময় : ২৯-১২-২০২৫ ১০:২৮:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-১২-২০২৫ ১০:৩০:৪০ অপরাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ছাড়াও বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, শ্রম সংস্কার এবং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। এক বছরের দায়িত্বপূর্ণ মেয়াদ শেষে দেশে ফেরার আগে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব ও নীতিগত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনরুল্লেখ করেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।


অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নতুন শ্রম আইনকে ব্যতিক্রমধর্মী ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শ্রম খাতে এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আগের সরকারগুলোর সময় শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন তিনি।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে একটি মানসম্মত আইন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের শীর্ষ শ্রমিক নেতারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন কনভেনশন অনুসমর্থনের বিষয়টিও ইতিবাচক অগ্রগতি পেয়েছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত এক মিলিয়নের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় একক দাতা হিসেবে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদায়ী সাক্ষাতে এক বছরের দায়িত্বকালে অবদান রাখার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি তাঁকে বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে পুনরায় বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]