শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পদ্মা নদীতে নোঙর করে রাখা একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি মহারাজ-৭’-এর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে কোদালপুর ইউনিয়ন এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে লঞ্চের দোতলার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আতঙ্কিত যাত্রীদের হুড়োহুড়িতে এক যাত্রী সামান্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে ছেড়ে আসা লঞ্চটি সকালে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় নদীর তীরের কাছে নোঙর করা একটি ছোট মালবাহী জাহাজ চালকের দৃষ্টিগোচর হয়নি। ফলে দ্রুতগতির লঞ্চটি সরাসরি জাহাজটির গায়ে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের দোতলার বাম পাশের প্রায় ৩০ ফুট অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই দোতলায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত নিচতলায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
দুর্ঘটনার পর বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি না থাকায় লঞ্চটি নির্ধারিত গন্তব্য মুলাদির উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে। তবে এ বিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারও চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের আরও সতর্কতা অবলম্বন ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।