সংসদ সদস্যদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভবনে অভিযান চালিয়েছে দেশটির দুটি দুর্নীতি দমন সংস্থা। রাজধানী কিয়েভে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীদের বাধার মুখে পড়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি নতুন দুর্নীতি তদন্তে বর্তমান সংসদের একাধিক সদস্যের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ যাচাই ও প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভারখোভনা রাদার বিভিন্ন অংশে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবে এ সময় পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কর্মীরা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (নাবু) এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন তদন্তের মাধ্যমে নাবু এবং স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (সাপো) একটি সংগঠিত অপরাধী চক্রের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই চক্রে ইউক্রেনের বর্তমান সংসদের কয়েকজন সদস্যও জড়িত রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নাবুর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ ইউক্রেনের রাজনীতিতে একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২১ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (CPI) ১৮০টি দেশের মধ্যে ইউক্রেনের অবস্থান ছিল ১২২তম। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও দুর্নীতির পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে বিশ্লেষকদের মত।
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এ তালিকায় তার একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন, যা সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা এবং কিয়েভের জন্য সম্ভাব্য মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জেলেনস্কি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন বছরের আগেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে। রুশ কর্মকর্তারা আলোচনা প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অগ্রগতির কথা বললেও ডনবাস অঞ্চল নিয়ে ইউক্রেনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের খারকিভ ও চেরকাসি অঞ্চলে রুশ হামলায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের নভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী, যা রুশ সামরিক রসদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।