লেবানন, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একযোগে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতের ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও গাজা সিটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। একই সময়ে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রম ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদনের কাছে একটি চলন্ত গাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি যানবাহন, যা আকাশপথ থেকে আঘাত করা হয়। এই ঘটনায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলায় হতাহতের ঘটনা থামেনি। গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। উপত্যকার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণসহ মোট ৬৫টি জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যা পরিস্থিতির সংকটাপন্ন চিত্র তুলে ধরে।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি বাহিনী একটি আবাসিক ভবন ভেঙে দিলে ১৩টি ফিলিস্তিনি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেরুজালেমে এ ধরনের উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৩৭০ বার।
একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের হেবরনের তারকুমিয়াহ এলাকায় ছয়টি ফিলিস্তিনি বাড়ি ভাঙার নতুন নোটিশ জারি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বসতি সম্প্রসারণ এবং ভূমি দখল জোরদার করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব বাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, ইসরাইল এখন পর্যন্ত ৮৭৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪১১ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।