ওয়াসিমুদ্দিন ভূঁইয়া, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।
বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান। তিনি হাদীকে একজন “প্রকৃত দেশপ্রেমিক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন।
বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান। তিনি হাদীকে একজন “প্রকৃত দেশপ্রেমিক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন।
শুক্রবার টেলিফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেবল হত্যাকারীদেরই নয়, বরং এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, হাদী ছিলেন সংস্কার ও জাতীয় অগ্রগতিতে বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক।
২০২৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ওসমান হাদী। জানা গেছে, হামলাকারী ফয়সাল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ই ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
সিনেটর শেখ রহমান বলেন, “তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদী বাংলাদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং দেশকে আরও ভালো অবস্থানে নিতে চেয়েছিলেন।” তিনি আরও বলেন, উদীয়মান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সহিংসতা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণপিটুনির ঘটনায় স্পষ্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সহিংসতা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, “আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। “এই কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যই হচ্ছে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া।”
সিনেটর রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে প্রার্থীদের সততা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে। তিনি বলেন, সৎ চরিত্রের, নৈতিকতা সম্পন্ন এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানো উচিত। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে বাংলাদেশের প্রয়োজন নৈতিক নেতৃত্ব।
তিনি আরও প্রস্তাব দেন, দলমত নির্বিশেষে তরুণ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের, যা অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, “দেশবাসীর উচিত দল নয়, ব্যক্তিগত প্রার্থীর গুণগত মান বিবেচনা করা।”
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সিনেটর রহমান বলেন, দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, দুর্বল শাসনব্যবস্থা অস্থিরতা ও জনগণের অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশ এখনো স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনাকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেনি।” দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্র ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কথায় ও কাজে দেশপ্রেম প্রদর্শনের জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো করেছে।
উল্লেখ্য, ওসমান বিন হাদী ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এই সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মটি সব ধরনের আধিপত্যের বিরোধিতা করে এবং ন্যায়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে।