ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একইসঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মহাসচিব এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরপরই দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তরুণ নেতা ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার এই অকাল মৃত্যুতে এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সহিংসতা থেকে দূরে থাকার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম কার্যালয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিলসের পক্ষ থেকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট, উদীচী এবং নালন্দা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এছাড়া সাংবাদিক নুরুল কবিরকে হেনস্তা, খুলনায় সাংবাদিক হত্যা এবং ময়মনসিংহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলোকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সংস্থাটি অবিলম্বে সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।