জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রসেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থল সংলগ্ন এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে, যেখানে ইমামতি করেন নিহতের বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যুর পর আজ সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ডিসেম্বর, যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক একদিন পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান এই বিপ্লবী তরুণ নেতা।
আজ বেলা আড়াইটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে বেলা ৩টা ২ মিনিটে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছায়। জানাজার আগে এক আবেগঘন বক্তৃতায় তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক খুনিদের বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করার পর খুনিরা কীভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ পায়। হাদির আট মাস বয়সী সন্তান 'ফিরনাস'-এর ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জাতির কাছে জোরালো দাবি জানান।
বিপ্লবী এই নেতার অকাল প্রয়াণে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে জানাজায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে খুনিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানানো হয়েছে।