প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা–অগ্নিসংযোগ, গণমাধ্যমে চরম আতঙ্ক

আপলোড সময় : ২০-১২-২০২৫ ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-১২-২০২৫ ১১:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত এই সহিংসতায় ভবন দুটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার সময় ইংরেজি দৈনিক নিউএজের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরও হেনস্তার শিকার হন।

হামলার পরদিন সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত দুই গণমাধ্যম কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। অগ্নিসংযোগের সময় ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা কর্মীরা সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন; কেউ কেউ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান বলেন, এখনো সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাটও হয়েছে।

হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোর কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। ‘প্রথম আলোর ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ’ লেখা ব্যানার হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন সম্পাদক মতিউর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হকসহ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের দাবি, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে, যা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি অশনিসংকেত।

মানববন্ধন চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পাশাপাশি গণমাধ্যম দুটিতে হামলার ঘটনায় জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউ, ক্র্যাব, সিপিজে, নোয়াব, সম্পাদক পরিষদসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

নাগরিক সমাজও এই হামলাকে পরিকল্পিত সহিংসতা হিসেবে দেখছে। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে নাগরিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটি শুধু গণমাধ্যমের ওপর নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এ ঘটনা গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তারা নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনারও নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে ফোন করে নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বাস দিলেও সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের মতে, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিই এখন জরুরি।

 

 
 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]