মধ্যস্বত্বভোগীর কারসাজিতে মাছের দাম উর্ধ্বগতি, গরিবের পাতে আর উঠছে না আমিষ

আপলোড সময় : ১৯-১২-২০২৫ ১০:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-১২-২০২৫ ১০:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
 

মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে মাছের দাম ক্রমাগত বেড়ে গরিব ও স্বল্প আয়ের মানুষের হাত থেকে আমিষের প্রধান উৎস মাছ দূরে সরে যাচ্ছে। চাষির উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম থাকলেও পরিবহন, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার কারসাজির কারণে ক্রেতাকে অনেক বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।​
 

মাঝের দালালচক্রের কারণে চাষির পাঙাশ যেখানে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে ২১০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে তেলাপিয়া কেজিতে ২৬০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই ৩৩০-৩৫০ টাকা, কই ২৫০-৩০০ টাকা, শিং ৪৫০ টাকা, বড় চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, শোল ৮০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা এবং মলা ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় গরিবের প্লেট থেকে সস্তা প্রোটিন কার্যত উধাও হয়ে যাচ্ছে।​
 

চাষির হিসাব বলছে, পুকুরের লিজ, শ্রমিকের মজুরি ও মাছের খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কেজিপ্রতি পাঙাশ উৎপাদনে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ পড়ে, আর বিক্রি করা যায় ১৫০ টাকায়; অর্থাৎ প্রকৃত চাষি লাভ পায় কেজিতে ১০ টাকার বেশি নয়। অন্যদিকে আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা একদিনের ব্যবধানেই কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন, যা পুরো দায়িত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে ভোক্তার কাঁধে।​
 

বাজারে নিত্যপণ্যের সঙ্গে সঙ্গে মাছের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন গরুর মাংস তো দূরের কথা, তুলনামূলক সস্তা পাঙাশ-তেলাপিয়া কেনাও কঠিন মনে করছেন। অনেকেই আগের মতো পর্যাপ্ত মাছ না কিনে কম পরিমাণে বা একেবারেই না কিনে শুধু তরকারি, ডাল আর ভর্তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।​
 

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মাছের খাদ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও মজুরি বেড়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তার বড় অংশই আসছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি থেকে। তাদের দাবি, সরকারের উচিত নিয়মিত বাজার তদারকি, সরাসরি উৎপাদক থেকে ক্রেতার কাছে সরবরাহব্যবস্থা জোরদার এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে গরিবের প্লেটে অন্তত ন্যূনতম আমিষের যোগান নিশ্চিত করা যায়।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]