ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ—ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীর দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক

আপলোড সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৯:৪৪:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৯:৪৪:৪১ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ—এমন দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার। মাদক পাচার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনার মধ্যে তার এই মন্তব্য ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কারাকাসের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও সামনে এনেছে।
 

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এক্সে দেওয়া পোস্টে মিলার বলেন, মার্কিন নাগরিকদের শ্রম, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে ভেনেজুয়েলায় তেল শিল্প গড়ে উঠেছিল। তার দাবি অনুযায়ী, ওই শিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা তিনি ‘মার্কিন সম্পদের সবচেয়ে বড় চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব সম্পদ সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সহিংসতা ও মাদক ছড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।
 

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনার মূল কারণ মাদক চোরাচালান দমন। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মিলারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই পাল্টা দাবিটি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

ইতিহাসগতভাবে ভেনেজুয়েলায় তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর ভূমিকা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক আইনের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতিমালা অনুযায়ী তেলের মালিকানা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রের কাছেই ছিল। ১৯৭৬ সালে দেশটি তেলখাত জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর অধীনে আনে। পরে ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ অবশিষ্ট বিদেশি তেল প্রকল্পও জাতীয়করণ করেন, যার ফলে এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপসের মতো মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটি ছেড়ে যায়।

জাতীয়করণের বিরুদ্ধে মার্কিন কোম্পানিগুলো আইনি পদক্ষেপ নেয়। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত এক সালিসি ট্রাইব্যুনাল এক্সন মবিলকে ক্ষতিপূরণ দিতে ভেনেজুয়েলাকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার কিছু অংশ এখনও চলমান।
 

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় সামরিক প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এ প্রেক্ষাপটে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌযান লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
 

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও কারাকাসের মধ্যে অবস্থানগত দূরত্ব কমার কোনো ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়।

 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]