মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে রুপির মান আরও ২৩ পয়সা কমে ৯১ দশমিক ০১-এ দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির মুদ্রার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন দর। মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত তহবিল প্রত্যাহার, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনায় স্থবিরতা এবং ডলারের উচ্চ চাহিদাকেই এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল দিনের শুরুতেই রুপির মান ৩৬ পয়সা কমে ৯১ দশমিক ১৪-এ পৌঁছে এক নতুন নেতিবাচক রেকর্ড তৈরি করেছিল। দিনের শেষভাগে সামান্য পুনরুদ্ধার হলেও তা ৯১-এর নিচে নামতে পারেনি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস এবং ডলার ইনডেক্স কিছুটা দুর্বল হওয়ার পরেও রুপির এই পতন ঠেকানো যায়নি।
মুদ্রা বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০টি লেনদেনের দিন ধরে রুপি ৯০ থেকে ৯১-এর সংকীর্ণ সীমানায় ওঠানামা করছিল। তবে গত মাত্র পাঁচ কার্যদিবসেই ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ১ শতাংশ। ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্সের ট্রেজারি প্রধান অনিল কুমার বানসালি জানান, ডলারের ধারাবাহিক ক্রয়চাপের কারণেই রুপি এই ঐতিহাসিক দরপতনের মুখে পড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের নতুন বাণিজ্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় চুক্তি স্থগিত হওয়া রুপির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রুপি ৯০ দশমিক ৮৭ থেকে লেনদেন শুরু করে দিনের এক পর্যায়ে ৯১ দশমিক ১৪ পর্যন্ত ওঠানামা করে। দিন শেষে এটি ৯১ দশমিক ০১-এ থিতু হয়। এর আগে সোমবারও ২৯ পয়সা হারিয়ে ৯০ দশমিক ৭৮-এ বন্ধ হয়েছিল রুপি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মুদ্রা ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, চলতি মাসেই রুপির দর ৯২ ছাড়িয়ে যেতে পারে।