শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ব্যায়ামের গুরুত্ব সর্বজনস্বীকৃত। নিয়মিত ব্যায়াম যেমন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণও হতে পারে। তাই প্রতিদিন কতটা সময় ব্যায়াম করা উচিত—এই প্রশ্নটি অনেকের মধ্যেই থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের সময়সীমা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম প্রয়োজন, যা প্রতিদিন অল্প সময় ব্যায়ামের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।
সাধারণভাবে একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ে, রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং মানসিক চাপও কমে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ বা শারীরিক শক্তি বাড়াতে চান, তারা সময় কিছুটা বাড়াতে পারেন।
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে স্বল্প সময়ের কার্যকর ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, হালকা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করলেই সুফল পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
প্রতিদিন একই ধরনের ব্যায়াম না করে বিভিন্ন দিনে ভিন্ন ভিন্ন ব্যায়াম করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীরের সংকেত বুঝে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলাই নিরাপদ ও কার্যকর পন্থা।