অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, "সামনে পরিস্থিতি খুবই সংকটময়" এবং "আর ক্ষমা নয়।" গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ভারত এবং ভিনদেশিদের স্বার্থরক্ষাকারী কেউ নিরাপদ থাকবে না, যদি তারা নিজেদের নিরাপদ মনে না করেন। তিনি জুলাই বিপ্লব পরবর্তী লড়াইয়ে নিজেদের পরাস্ত দাবি করে বলেন, একটি লাশ পড়লে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবেন না।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে যোগ দিয়ে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে কঠোর বক্তব্য রাখেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে যোগ দিয়ে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে কঠোর বক্তব্য রাখেন।
মাহফুজ আলম স্পষ্টভাবে বলেন, "এত সুশীলতা করে লাভ নেই। কারণ অনেক হয়েছে, অনেক ধৈর্য ধারণ করেছি।" তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যদি তাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তবে তারাও কঠোর জবাব দেবেন। তিনি আরও বলেন, "আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না। এটা হচ্ছে বেসিক কন্ডিশন।" তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে ভারত এবং অন্যান্য ভিনদেশি শক্তির যারা স্বার্থ রক্ষা করছে, তাদের কোনোভাবেই এই দেশে ঠাঁই দেওয়া বা নিরাপদ থাকতে দেওয়া হবে না।
মাহফুজ আলম স্বীকার করেন যে, জুলাই বিপ্লবের পরে তাদের যেই শক্ত লড়াই করার কথা ছিল, তাতে তারা "পরাস্ত" হয়েছেন। এ কারণেই জুলাইয়ের বীর শরিফ উসমান বিন হাদিকে গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যখন মুজিববাদী এবং ১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকটি বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, সেদিন তারা 'সংবরণ' করেছিলেন। সেই 'ক্ষমা' যদি ভুল হয়ে থাকে, তবে তারা এখন প্রতিজ্ঞা করছেন যে "আর ক্ষমা করবেন না।"
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা প্রথম থেকেই 'মুজিববাদের মূল উৎপাটন' করার কথা বললেও, মুজিববাদের শেকড় সংস্কৃতি, বুদ্ধি ও রাজনীতিতে এমন গভীরে প্রোথিত যে তা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি ও সামর্থ্যের চেষ্টা কমই দেখা গেছে। তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, '৭২-এর সংবিধানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মুজিববাদের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষের লাশ ফেলা হয়েছে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বজায় রাখতে দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও আইন অঙ্গনের লোকদের কব্জা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ভিনদেশি 'অ্যাসেটরা'ই হাদিকে মারার যুক্তি তৈরি করেছে এবং হামলার পর সবাই নীরব হয়ে নাটক করছে। তিনি শেষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি এই দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে এই দেশের মুক্তির লড়াইও এই দেশের বাইরে যাবে।"