শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন এখানে। পর্যটকের এই বাড়তি ভিড় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত চর কুকরি-মুকরি তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে ইতোমধ্যে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণস্থলে পরিণত হয়েছে। একসময় আবাসন সংকটের কারণে অধিকাংশ পর্যটক স্বল্প সময় অবস্থান করলেও—গত এক দশকে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অবকাঠামো এই অঞ্চলের পর্যটন খাতকে নতুন গতিশীলতা দিয়েছে। এখানে তৈরি হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কোস্টাল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার কাম রেস্টহাউস, পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করে হোম-স্টে সুবিধাও গড়ে উঠেছে।
এ ছাড়া পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ওয়াকওয়ে, জিপ ট্র্যাকিং, স্পাইডার ট্র্যাকিং, ঝুলন্ত ব্রিজসহ আধুনিক নানা সুবিধা যুক্ত হয়েছে। মূল ভূখণ্ড থেকে চরে যাতায়াত সহজ করতে বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন সড়কও নির্মাণ করেছে সরকার। অন্য দ্বীপ থেকে পর্যটকদের আগমন সহজ করার জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি বাঁশের জেটি করা হয়েছে।
এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে ভার্জিন বিচ তাড়ুয়ায়। দীর্ঘ বিস্তৃত বালুকাময় সৈকত, সতেজ বাতাস ও ঢেউয়ের গর্জন পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। অনেকে এখানে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ট্রলার ও স্পিডবোট ভাড়া করে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে জনপ্রিয় স্পট নারকেলবাগানেও ঘুরে যাচ্ছেন ভ্রমণকারীরা। এখানে রয়েছে ছনের বিশ্রামকেন্দ্র, ওয়াচ টাওয়ার এবং জোয়ার-ভাটার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগের সুযোগ। ভাটার সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসিক উপস্থিতি পর্যটকদের আরও আনন্দ দেয়।
উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা আশিস চন্দ্র দাস জানান, সরকারি-বেসরকারিভাবে তাড়ুয়া ও নারকেলবাগান এলাকায় পর্যটন উন্নয়নে অবকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নারকেলবাগানের দোলনায় বসে নদীর জোয়ার-ভাটার দৃশ্য উপভোগ করা পর্যটকদের কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।