গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটিকে টাকা ও আসন অফার করা হয়েছিল, তবে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনও আপোষ করেনি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গণঅধিকার পরিষদ সামান্য কয়েকটি আসনের জন্য কোনো জোটে যুক্ত হবে না। দেশের স্বার্থে যদি জোট গঠনের প্রয়োজন হয়, তা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ আসন সমঝোতা নিশ্চিত করে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন নূর।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে নির্বাচন পেছানো নিয়ে কমিশন ও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তা না হলে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।
নূর ঘোষণা দেন, গণঅধিকার পরিষদ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেবে। তবে দেশের প্রয়োজনে কোনো জোট করা হলে তা হবে সেসব আসনে যেখানে দলটির জনসমর্থন রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা এখনো ফ্যাসিস্ট মানসিকতায় হুমকি-ধামকি ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি করছে, যা জনগণ মেনে নেবে না। “১৬ বছরের অপশাসন চোখের পলকে শেষ হয়েছে,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা জনগণের বিরুদ্ধে যাবে, তাদের পরিণতিও একই হবে।”
নূর গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার সব রাজনৈতিক দলকে সংযমী ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান। সেখানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ূম।
সভা শেষে নূর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৫-এ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।