১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ঘোষিত 'কমপ্লিট শাটডাউন' বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর দুটি মোর্চা—'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ' এবং 'প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ'—বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থগিত থাকা বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এই তালাবদ্ধ কর্মসূচি স্থগিত করা হলো। আন্দোলন স্থগিতের বিষয়টি 'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের' আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদও নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি—এই তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের এই দাবির পক্ষে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না দেখে তারা দেশজুড়ে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি—এই তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের এই দাবির পক্ষে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট কোনো অগ্রগতি না দেখে তারা দেশজুড়ে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন।
তবে, শিক্ষক নেতারা অবশেষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের কথা এবং আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের লাগাতার কর্মসূচি থেকে সরে এলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেওয়া যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা জানায়, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও, শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই মানবিক দিকটি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার ফলে, আগামী রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসছে এবং স্থগিত থাকা বার্ষিক পরীক্ষাগুলো শুরু হতে যাচ্ছে। আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ জানান, আপাতত পরীক্ষার স্বার্থে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও, তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের প্রতিশ্রুত যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন।