সংযোগ চালু থাকলেও কাগজে 'বিচ্ছিন্ন': সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে হয়রানি ও অতিরিক্ত ফি দাবির অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৫-১২-২০২৫ ০১:০২:৩২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১২-২০২৫ ০১:০২:৩২ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের হয়রানি এবং অন্যায়ভাবে 'পুনঃ সংযোগ ফি' দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মিটার সচল থাকা এবং নিয়মিত বাতি জ্বলা সত্ত্বেও, অফিসিয়ালিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছে এই ফি চাওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বামনজলের দরিদ্র গ্রাহক মো. দুলা মিয়া। গত ২ জুন বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরেও, পরবর্তীতে বিল না পাওয়ায় তিনি অফিসে গেলে তাকে জানানো হয় যে, গত ১৫ মে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং পুনঃ সংযোগের জন্য ৮২৮ টাকা দাবি করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই শুধু কাগজ-কলমে বিচ্ছিন্ন দেখিয়ে নিরীহ গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের এই প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য গ্রাহকরা।

দরিদ্র গ্রাহক মো. দুলা মিয়া গত ২ জুন বিলম্ব মাশুলসহ চার মাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করেন। এরপর জুন ও জুলাই মাসের কোনো বিল না আসায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন। বাধ্য হয়ে গত ১৭ আগস্ট তিনি সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান। সেখানে তিনি প্রধান কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে বাধার সম্মুখীন হন এবং তাকে বিলিং শাখার একজন নারী কর্মীর কাছে পাঠানো হয়। সেই কর্মী তাকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে, তার সংযোগটি গত ১৫ মে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এটি পুনঃ সংযোগ করতে তাকে ৮২৮ টাকা জমা দিতে হবে।
নিজের মিটার সচল থাকা সত্ত্বেও কেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখানো হলো, দুলা মিয়া তা জানতে চান। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে এবং তিনি অফিস প্রধানের কক্ষে যেতে চাইলে, তাকে পুনঃ সংযোগ ফি না নিয়ে শুধুমাত্র বিলম্ব মাশুলসহ ১৫৩ টাকার জুন মাসের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সেই বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এরপরও জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত কোনো বিলের কাগজ তিনি পাননি।
 
গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) অফিসের তিন কর্মচারী তার মিটারটি খুলতে এলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকরা অবিলম্বে এই 'কাগজে-কলমে বিচ্ছিন্ন' দেখানোর মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারো লাইন কাটার সময় এলাকার অনেক মানুষ উপস্থিত থাকেন, কিন্তু দুলা মিয়ার লাইন তো কখনো কাটা হয়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, কোনো সমস্যা নিয়ে অফিসে গেলে নারী কর্মীরা প্রায়শই গ্রাহকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
দুলা মিয়া জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকা সত্ত্বেও তাকে ৮২৮ টাকা জমা দিতে বলা হয়, যা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। তার অভিযোগ, 'ওয়্যারিং পরিদর্শক নেয়ামুল' নামের এক কর্মকর্তা অফিসে বসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিরীহ গ্রাহকদের হয়রানির মুখে ফেলে ওই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি হয়েছেন।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, দুলা মিয়ার ঘরের মিটারটি সচল রয়েছে এবং বাড়িতে আলো জ্বলছে। মিটারের বর্তমান কিলোওয়াট ঘণ্টা (KWH) ৭৫৬, যা গত ৬ জুন পর্যন্ত ছিল ৬৩০। এই তথ্যগুলোই প্রমাণ করে যে সংযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি।
 
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান প্রথমে নানা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করলেও, মিটারের সচল অবস্থা, রিডিং এবং বিলের কপি দেখানো হলে তিনি গ্রাহকের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে দ্রুত দুই-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। এই ঘটনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অভ্যন্তরে গ্রাহক সেবার মান এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]