মালয়েশিয়ার জাতীয় সাহিত্য অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি নির্মাতা, লেখক ও সংগঠক জাফর ফিরোজ। তার বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য ফোরকড রোড’ এ বছরের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর সমসাময়িক বিভাগে পুরস্কার লাভ করেছে, যা দুই দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলমের সেতিয়া সিটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট ও ট্রফি জাফর ফিরোজের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জুরি প্যানেলের চেয়ারম্যান প্রফেসর এমিরেটাস তান সেরি দাতুক সেরি ড. ইব্রাহিম শাহ আবু শাহ তার হাতে এই সম্মাননা হস্তান্তর করেন, যেখানে স্থানীয় ও প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমসাময়িক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত ‘দ্য ফোরকড রোড’ উপন্যাসে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দ্বন্দ্ব এবং পরিবর্তনের বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, রাজনৈতিক হত্যা ও গুম, বৈষম্যবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক আলোচিত বাস্তব ঘটনা কাহিনির বুননে স্থান পেয়েছে। বিশেষভাবে, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক নিজ দেশের নাগরিকদের বিশেষ ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার ঘটনাও উপন্যাসটিতে বাস্তবতা ও কল্পনার সৃজনশীল সংমিশ্রণে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে মালয়েশিয়ায় পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সংকট, অনিশ্চয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয় দিবসে উপন্যাসটির লেখালেখি শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এটি সম্পন্ন হয়; দীর্ঘ এই সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও কল্পনার মেলবন্ধন বইটিকে সমালোচক ও পাঠকমহলে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে। বর্তমানে উপন্যাসটি আন্তর্জাতিক পাঠকদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনেও উন্মুক্ত রয়েছে।
‘দ্য ফোরকড রোড’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র রাইয়ান, মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষায়তন এক বিদেশি শিক্ষার্থী, যার স্থিতিশীল জীবন হঠাৎ এক ফোনকলের পর সম্পূর্ণভাবে বদলে যায়। বাবার হত্যার সংবাদ, মায়ের অসুস্থতা, পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চাপের মধ্যে তার বহুদিনের স্বপ্নের প্রকল্প ভেঙে পড়ে। জীবন ও ক্যারিয়ারের এক সংকটময় চৌরাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে রাইয়ান দোটানায় পড়ে—সে কি দেশে ফিরে সবকিছুর মোকাবিলা করবে, নাকি পড়াশোনা শেষ করে নতুন পথ খুঁজবে; মানুষের প্রতিটি সিদ্ধান্ত কত গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, উপন্যাসটি সেই মৌলিক প্রশ্ন নতুনভাবে পাঠকের সামনে হাজির করে।